শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি
বিপ্লবী জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র
ওসমান গণি (১৯৯৩-২০২৫)
শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শরীফ ওসমান বিন হাদি, যিনি ওসমান গণি নামেও পরিচিত, ছিলেন একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, শিক্ষক ও সমাজকর্মী। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৫ সালের ১২ই ডিসেম্বর তিনি ঢাকার পল্টনে গুপ্তহত্যার শিকার হন এবং ১৮ই ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
দ্রুত তথ্য
জীবনপঞ্জি
জন্ম
ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।
উচ্চ শিক্ষা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
শিক্ষকতা
ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের ইংরেজি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
জুলাই বিপ্লব
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রামপুরা এলাকার সমন্বয়কারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র হন।
নির্বাচনী প্রচারণা
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন এবং সক্রিয় প্রচারণা চালান।
শাহাদাত
১২ ডিসেম্বর পল্টনে গুপ্তহত্যার শিকার হন। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের বিবরণ
তারিখ ও সময়
১২ ডিসেম্বর ২০২৫, শুক্রবার
স্থান
পল্টন, ঢাকা
হামলাকারী
মুখোশধারী সশস্ত্র দুর্বৃত্ত
চিকিৎসা
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল
ঘটনার বিবরণ
শরীফ ওসমান হাদির ওপর ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকায় একটি পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। সেদিন তিনি একটি মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই রিকশায় থাকা অবস্থায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি মোটরসাইকেলে করে আসা হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে তাঁকে মাথায় গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
তদন্তের তথ্য
- ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত
- ফয়সালের স্ত্রী সামিয়া, বন্ধু মনিকা ও শ্যালক শিপুকে আটক
- ফয়সালের বাবা-মাকে সহায়তার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ
- পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে
জানাযা ও দাফন
তারিখ
২০ ডিসেম্বর ২০২৫
সময়
যোহরের নামাজের পর
স্থান
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা
উপস্থিতি
লক্ষ লক্ষ মানুষ
দাফন স্থান
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলের পাশে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ