ভাইয়ের শাহাদাতের ১ সপ্তাহ আগে ভাবি আমারে বাসায় আসতে বলতেছিলেন। আমরা ছাদে বারবিকিউ করার প্লান করতেছিলাম। ভাবিরে বলতেছিলাম আমার ডাকসুর ১৬ ডিসেম্বরের প্রোগ্রাম শেষ করি। এরপর পুরো বন্ধে ঢাকা-৮ কাঁপাইয়া ফেলব সবাই মিলে। মেয়েরা কে কে জনসংযোগে যাবো প্লান রেডি করে ফেলসিলাম। আমাদের প্লান ছিলো ঢাকা-৮ এ এমন সব কাজ হবে যে সারাদেশ ফলো করবে। ৮ এ শুধু একটা নাম থাকবে মুখে মুখে, ওসমান হাদী। ১১ তারিখ রাতেও আমার আর ভাইয়ের টিম নিয়ে কম্বল বিতরণ করতে যাওয়ার প্লান ছিল। পরে ভাই আবার বললেন, আজ না যাই। ১৩ তারিখ যাবো তোমারে নিয়ে। ১৩ তারিখ আমার আর জাবের ভাই দুইজনেরই জন্মদিন। আগের বছর ও বিজয়ের লাল জুলাই প্রোগ্রামের জন্য সারাদিন খাটানোর পর আমাদের মামা হোটেলে নিয়ে ২৫০ টাকায় ৩ জন মিলে ভাত খাওয়াইলেন। ডাইকা বললেন, তোমাদের জন্মদিন সেলিব্রেট চাইলেই করতে পারি। কিন্তু এই যে এত এত ছেলেমেয়ে কাজ করে এদের সবারটা করা তো আমাদের পক্ষে পসিবল না। ওরা কখনো যেন ফিল না করে নেতারা ওদের চেয়ে একটু আলাদা।
ওসমান ভাই নিজেও কখনো বেশি ভালো জামা, বেশি এক্সপেন্সিভ কিছু নিজের জন্য চুজ করতেন না। যাতে কখনো তাঁর সাথে কাজ করা কেউ মিশতে, কথা বলতে হেজিটেট ফিল না করে। এইজন্য এত রিস্ক জেনেও কখনো গাড়িতে চড়েন নাই.... নির্বাচন ঘিরে চারপাশে বেশ উত্তেজনাকর বিশ্রি ঘটনা ঘটছে। সেই সাথে অনেক কিউট আনন্দঘন সব ভিডিও ও সামনে আসে। আমারে এই উত্তেজনা বা আনন্দ কিছুই আর ছুঁতে পারেনা। আমার শুধু মনে পড়ে সব ঠিক থাকলে পুরো বাংলাদেশ মাতাইয়া রাখতো একটা মানুষ, ওসমান হাদী। আর আমি কিউট সব মিম ম্যাটেরিয়াল শেয়ার দিয়ে লিখতাম Vote for Hadi, Vote for Change. অথচ এখন আমারে লিখতে হয় #JusticeForHadi ..